Skip to main content

Posts

প্রশ্ন: যারা ভাষার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে কি 'শহীদ' বলা যাবে?'

শহীদ একটি ইসলামী পরিভাষা। সুতরাং এটি ইসলামের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। ইসলামের শহীদের মর্যাদা অতুলনীয়। শহীদ মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথেই জান্নাতের নিয়ামত ভোগ করতে থাকে। এটি কোন রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিভাষা নয়। তাই ইসলামের দেখানো নির্দেশনা ছাড়া অন্য কোন কিছুর সাথে এটিকে সম্পৃক্ত করা উচিৎ নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে তাকেই শহীদ বলা হয়, যে একমাত্র আল্লাহর বিধানকে উচ্চকিত করার উদ্দেশ্যে নিহত হয়। সুতরাং কেউ যদি শুধু দেশ, ভাষা, আঞ্চলিকতা, রাজনৈতিক স্বার্থ, বংশগত আভিজাত্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশে যুদ্ধ বা মারামারিতে লিপ্ত হয়ে নিহত হয় তাহলে সে শহীদ হবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশেষণটি রাজনৈতিক স্বার্থে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, নাস্তিক যে কারও ব্যাপারে প্রয়োগ করা হচ্ছে! ◼ কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে শহীদের পরিচয় ও মর্যাদা:   🔸 আল্লাহ তাআলা বলেন: وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ “আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়,তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না।” (সূরা ব...

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণ

শ রীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের পুষ্টির জন্য সুষম খাবার অত্যন্ত জরুরি। মস্তিষ্ক সঠিক পুষ্টি না পেলে অনেক ক্ষেত্রেই স্মৃতিভ্রমসহ আরও নানান সমস্যা দেখা দেয়। তবে খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণে দুর্বল স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কম ঘুমঃ নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুম না হলে বা ঘুমে বারবার ব্যঘাত ঘটলে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না ফলে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘদিন এমন চললে এর ফলাফল হতে পারে দুর্বল স্মৃতিশক্তি। যা থেকে আলৎঝাইমার’স হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরিবেশ দূষণঃ ২০১৭ সালের এক গবেষণায় জানা যায়, দীর্ঘদিন দুষিত এলাকায় যারা বসবাস করেন তাদের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি থাকে। দূষিত পরিবেশের বাতাসে যে পদার্থগুলো থাকে তা শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে যা থেকে টক্সিসিট ও আলৎঝাইমার’স রোগের সূত্রপাত হতে পারে। খাদ্যাভ্যাসঃ একবারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এবং অনেক দেরি করে খাবার খাওয়া, দুটি অভ্যাসই মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। টানা ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে রাতের খাবার এবং সকালের নাস্তার মধ্যকার সময়ের পার্থক্যও বেশ উল্লেখযোগ্য। তাই সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য সঠিক খাদ্য...
নারীদের ক্যারিয়ার গঠনে ​ইসলাম কি বাধা দেয়?​ ▬▬▬ 🌐 💠 🌐 ▬▬▬  কখনো নারীদেরকে উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বাধা দেয় না বরং এতে উৎসাহিত করে। তবে অবশ্যই তাকে ইসলামের বিধান মেনে তা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে যদি ইসলামের বিধান লঙ্ঘিত হয় তখন অবশ্যই ইসলাম অগ্রাধিকার পাবে। এটাই ঈমানের দাবী। এ কথা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। একজন পুরুষের জন্যও বিধান হল, ক্যারিয়ার গঠন করতে গিয়ে যদি আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করতে হয় তখন তাকেও সে পথে থেকে ফিরে আসতে হবে। কেননা, মুমিনের জন্য দুনিয়ার আয়-উন্নতি, সাফল্য ও সমৃদ্ধির চেয়ে আখিরাতের সাফল্য ও মুক্তি বেশী গুরুত্বপূর্ণ।  তাই, যতক্ষণ পর্যন্ত শরীয়তের সীমা-রেখার মধ্যে থেকে ক্যারিয়ার গঠন, চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য দুনিয়াবি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা যায় ততক্ষণ তাতে ইসলাম কোনভাবেই বাধা দেয় না। সুতরাং একজন নারীও ইচ্ছা করলে নারী অঙ্গনে বা এমন পরিবেশে নিজেকে উন্নত করার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করতে পারে যেখানে তার সম্ভ্রম ও ঈমান রক্ষা করা সম্ভব হয়। যেমন, বর্তমানে সউদী আরবে আল হামদুলিল্লাহ নারীরা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যাংকিং, আইটি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষের সংমিশ্রণ ছাড়া...

মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গা সমান" এটা কি হাদিসের কথা?

"মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গার সমান কথা" এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস নয় বরং লোকসমাজে প্রচলিত একটি উক্তি মাত্র। আমাদের সমাজে এ কথাটি মুখেমুখে প্রচলিত রয়েছে এবং শিল্পীরা গানের মধ্যে এ জাতীয় কথা বলে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হাদিসের বক্তব্য নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়া, কারো মনে আঘাত করা, কারো সাথে প্রতারণা করা, অঙ্গিকার ভঙ্গ করা, গালি দেয়া, মিথ্যাচার করা ইত্যাদি অত্যন্ত জঘন্য গুনাহের কাজ- তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে উক্ত কথাটিকে হাদিস মনে করা বৈধ নয়। কেননা তা কোনো হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায় না। 🌀  মুমিনদেরকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়া মারাত্মাক অন্যায় ও কবিরা গুনাহ (বড় পাপ)। এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর কতিপয় বক্তব্য উপস্থাপন করা হল: ❐ আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَات ِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا "যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।" (সূরা আহযাব: ৮৫) ❐ আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়...

ঈদের বিধিবিধান

▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬ ভূমিকা: অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে যখন ঈদের এক ফালি চাঁদ পশ্চিম দিগন্তে ভেসে উঠে তখন সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। শিশু-কিশোরগণ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে প্রজাবতীর মত ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। এই ঈদ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নিয়ামত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমন করে দেখলেন, মদীনাবাসী খেলা-ধূলার মধ্য দিয়ে দুটি দিবস উদযাপন করে থাকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিবস কি? তারা বলল, এ দুটি দিবস জাহেলি যুগে আমরা খেলা-ধুলার মধ্যদিয়ে উদযাপন করতাম। তিনি বললেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুটি দিবসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, একটি হল, ঈদুল আযহা এবং অপরটি হল, ঈদুল ফিতর।” (সুনান আবু দাঊদ, হাদিস নং ৯৫৯ সনদ-সহীহ, আলবানী) (রহঃ) ইসলামী দিক নির্দেশনা অনুযায়ী যদি আমরা ঈদ উদযাপন করি তবে একদিকে যেমন ঈদের অনাবিল আনন্দে ভরে উঠবে আমাদের পার্থিব জীবন অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হবে আমাদের পরকালীন জিন্দেগি। 💠 ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর ছাড়া অন্য কোন ঈদ-উৎসব পালন করা:  উপরোল্লিখিত হাদিস থ...

আহলে_হাদীস_সম্পর্কে_বিদ্যানগণের_মতামত। [আসুন যেনে নিই আহলে হাদিসদের মর্যাদা]

★★আহলে হাদিস কোন ধর্মের জাতির বা কোন সম্প্রদায়ের নাম নয় এটি মুসলমানদের একটি গুনগত বা বৈশিষ্টগত নাম মাত্র। ফারসি সম্বন্ধ পদে  আহলেহাদীছ্ এবং আরবী সম্বন্ধ পদে আহলুল হাদীছ্  -এর আভিধানিক অর্থঃ হাদীছের অনুসারী। এবং পারিভাষিক অর্থে কুরআন ও সহীহ্ হাদীছের নিরপেক্ষ অনুসারী "। ♦♦যিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ হাদীছের সিদ্ধান্তকে নিঃশর্তভাবে  তুলতে সচেষ্ট হবেন কেবলমাত্র তিনিই এ নামে অভিহিত হবেন। সাহাবায়ে কেরাম হলেন আহলে হাদিসদের প্রথম সারির সম্মানিত দল। কেননা সাহাবায়ে কেরামের যুগেই এই আহলেহাদীছ্ শব্দ টি ব্যাপক ভাবে প্রসার লাভ করে। কারন সে সময় বিভিন্ন ফের্কা জন্ম নিয়ে ছিল যেমনঃশীয়া,খারেজী, মুতাযিলা,মুরজিয়া, রাফেজিয়া প্রভৃতি নামে প্রসিদ্ধ। ♦♦তারা সকলেই নিজেদের কে আহলুস সুন্নাহ ও মুসলমান বলে দাবি করত।একারনেই প্রকৃত মুসলমান হিসাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে আহলুল হাদীছ্ শব্দটি ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই দেখা যায়। ♦♦যেমন হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রা) হতে বর্নিত তিনি যখন কোন মুসলিম যুবককে দেখতেন তখন খুশি হয়ে বলতেন, রাসুল (স) এর অসীয়ত অনুযায়ী আম...

যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) হিসেবে টাকা দেয়া সুন্নত না কি খাদ্যদ্রব্য?

হাদীসে ফিতরা হিসেবে খাদ্যদ্রব্য প্রদানের কথাই বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে দিনার-দিরহামের প্রচলন ছিল কিন্তু তারা কখনো খাদ্যদ্রব্য ছাড়া দিনার-দিরহাম বা অন্য কিছু দ্বারা ফিতরা প্রদান করেছেন বলে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। কি কি জিনিস দ্বারা এবং কত পরিমাণ ফিতরা দেওয়া সুন্নত? এর উত্তর সহীহ হাদীসে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে যার, ফল কথা হল: খেজুর, যব, কিশমিশ, পনীর কিংবা প্রধান খাদ্য দ্রব্য দ্বারা ফিতরা দেওয়া সুন্নত, মূল্য দ্বারা নয়। আর এক জন ব্যক্তিকে এক সা’ ফিতরা দিতে হবে, যার পরিমাণ সাধারণ মানুষের চার পূর্ণ অঞ্জলি সমান। [ফাতাওয়া মাসায়েল, মাওলানা কাফী, পৃঃ ১৭২-১৭৩] কেজির ওজনে তা আড়াই কিলোর কম নয়। ▪ইবনে উমার (রাযি:) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ‘‘ আল্লাহর রাসূল যাকাতুল ফিতর স্বরূপ এক ’সা কিংবা এক ’সা যব ফরয করেছেন মুসলিম দাস, স্বাধীন ব্যক্তি, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড়র প্রতি। আর তা লোকদের নামাযে বের হওয়ার পূর্বে আদায় করে দিতে আদেশ করেছেন”। [ বুখারী, অধ্যায়: যাকাত হাদীস নং ১৫০৩/ মুসলিম নং ২২৭৫] উক্ত হাদীসে দুটি খাদ্য দ্রব্যের নাম পাওয়া গেল যা, দ্বা...