Skip to main content

আহলে_হাদীস_সম্পর্কে_বিদ্যানগণের_মতামত। [আসুন যেনে নিই আহলে হাদিসদের মর্যাদা]


★★আহলে হাদিস কোন ধর্মের জাতির বা কোন সম্প্রদায়ের নাম নয় এটি মুসলমানদের একটি গুনগত বা বৈশিষ্টগত নাম মাত্র।

ফারসি সম্বন্ধ পদে  আহলেহাদীছ্ এবং আরবী সম্বন্ধ পদে আহলুল হাদীছ্  -এর আভিধানিক অর্থঃ হাদীছের অনুসারী।

এবং পারিভাষিক অর্থে কুরআন ও সহীহ্ হাদীছের নিরপেক্ষ অনুসারী "।

♦♦যিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ হাদীছের সিদ্ধান্তকে নিঃশর্তভাবে  তুলতে সচেষ্ট হবেন কেবলমাত্র তিনিই এ নামে অভিহিত হবেন।

সাহাবায়ে কেরাম হলেন আহলে হাদিসদের প্রথম সারির সম্মানিত দল। কেননা সাহাবায়ে কেরামের যুগেই এই আহলেহাদীছ্ শব্দ টি ব্যাপক ভাবে প্রসার লাভ করে। কারন সে সময় বিভিন্ন ফের্কা জন্ম নিয়ে ছিল যেমনঃশীয়া,খারেজী, মুতাযিলা,মুরজিয়া, রাফেজিয়া প্রভৃতি নামে প্রসিদ্ধ।

♦♦তারা সকলেই নিজেদের কে আহলুস সুন্নাহ ও মুসলমান বলে দাবি করত।একারনেই প্রকৃত মুসলমান হিসাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে আহলুল হাদীছ্ শব্দটি ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই দেখা যায়।

♦♦যেমন হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রা) হতে বর্নিত তিনি যখন কোন মুসলিম যুবককে দেখতেন তখন খুশি হয়ে বলতেন, রাসুল (স) এর অসীয়ত অনুযায়ী আমি তোমাকে মারহাবা জানাচ্ছি।

রাসুল (স) আমাদেরকে তোমাদের জন্য মজলিস প্রশস্ত করার ও তোমাদেরকে হাদীছ্ বুঝাবার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কেননা তোমরাই আমাদের পরবর্তী বংশধর ও পরবর্তী আহলে হাদীছ্। (দেখুন, আল -মুস্তাদরাক ১/৮৮ পৃঃ সিলসিলা সহীহা হা /২৮০)।

♣♣তাছাড়া খ্যাতনামা তাবেঈ ইমাম শা বী রঃ (২২-১০৪ হিঃ) সাহাবায়ে কেরামের জামাআতকে আহলুল হাদীছ্ বলতেন। যেমন একদা তিনি বলেন এখন যেসব ঘটছে তা আগে জানলে কোন হাদীছ্ বর্ননা করতাম না কেবল ঐ হাদীছ্ ব্যতীত, যার উপরে আহলুল হাদীছ্ অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরামেরা একমত হয়েছেন।(শামসুদ্দীন যাহাবী, তাযকেরাতুল হুফফায ১/৮৩ পৃঃ)।

♦♦বি দ্রঃ→এতদ্বছাড়া প্রসিদ্ধ চার ইমামের সকলেই আহলে হাদীছ্ ছিলেন। যেমন (১) ইমামে আযম আবু হানিফা (র) বলেন যখন সহীহ্ হাদীছ্ পাবে, জেনে রেখো সেটাই আমার মাযহাব ।(শামী হাশিয়া রদ্দুল মুহতার ১/৬৭ পৃঃ, মীযানুল কুবরা ১/৩০ পৃঃ)।

♣♣(২) ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন যখন আমি কোন আহলে হাদীছ্ কে দেখি,তখন আমি যেন রাসুল (স) কে এবং তার সাহাবীদের কে জীবন্ত দেখি।[শারফ -২৬]

♣♣(৩) ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেন তারা যদি আহলে হাদীছ্ না হন,তবে আমি জানিনা তারা কারা।[তিরমিযী, মিশকাত হা /৬২৮৩ -এর ব্যাখ্যায়, শারফ -১৫]।

♦♦তাছাড়া তিনি আরও বলেন আহলে হাদীছের চেয়ে উত্তম কোন দল আমার কাছে নেই।তারা হাদীছ্ ছাড়া অন্য কিছু চেনে না।

[আবুবকর আল -খত্বীব বাগদাদী,শারফু আছহাবুল হাদীছ্ পৃঃ ২৭]।

♣♣(৪) ইমাম আবুদাউদ (রঃ) বলেন আহলে হাদীছ্ জামাআত যদি দুনিয়ায় না থাকতো তাহলে ইসলাম দুনিয়া থেকে মিটে যেত।[শারফ -২৯ পৃঃ]।

♣♣(৫) খলিফা হারুনর রশীদ (মৃঃ ১৯৩ হিঃ) বলতেন আমি মুসলমানদের চারটি দলের মধ্যে চারটি বস্তু পেয়েছি কুফরি সন্ধান করে পেয়েছি জাহমিয়াদের  মধ্যে,কুটতর্ক ও ঝগড়া পেয়েছি  মুতাযিলাদের মধ্যে, মিথ্যা খুঁজেছি ও সেটিকে পেয়েছি রাফেজিয়া-দের মধ্যে,অতঃপর আমি হক্ব খুঁজেছি এবং তা পেয়েছি 'আহলে হাদীছ্দের ' মধ্যে।(শারফ -৩১ পৃঃ)

♣♣(৬) বড় পীর নামে খ্যাত শায়খ আব্দুল ক্বাদির জিলানী (রঃ) বলেন আহলেসুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্য কোন নাম নেই একটি নাম ব্যতীত আর সেটিই হলো আহলুল হাদীছ্ [গুনিয়াতুত ত্বালেবীন ১/৯০ পৃঃ]।

♦♦বিঃদ্র→এছাড়া অজস্র প্রমাণ সংরক্ষিত আছে ইংশাআল্লাহ।তবে বিশেষ কথাটি হলো এইযে চার ইমামের সকলেই তাদের তাক্বলিদ তথা দ্বীনী বিষয়ে অন্ধ অনুসরণ বর্জন করে সহীহ্ হাদীছ্ অনুযায়ী আমল করার জন্য সকলকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

অতএব স্পষ্টত প্রতীয়মান যে, সাহাবীদের যুগ থেকেই এই আহলুল হাদীছ্ শব্দটি চলে আসছে। এককথায় বলা যায়, "সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে চলে আসা নির্ভেজাল মুসলমানদের একটি সতন্ত্র বৈশিষ্ট গত নাম।" আহলুল হাদীছ্ মানে কুরআন এবং সহীহ্ সুন্নাহর অনুসারীর নাম।

সুতরাং হে আল্লাহ তুমি সকল মুসলমান ভাই ও বোনদেরকে প্রকৃত পক্ষে আহলে হাদীছ্ হওয়ার তৌফীক দান কর।(আমিন)।

তার পরো যারা বলবে আহলে হাদিস দল হচ্ছে ফেতনা বাজ..! তারা সরাসরি এই অপবাদ আবুসাইদ খুদরী (রাঃ) আনহুর উপর মিথ্যা আরোপ করলো।

কারন তিনি নিজে আহলে হাদিস ছিলো।

শুধু আবু সাইদ খুদরী রাঃ নয় সকল সাহাবারাই আহলুল হাদিস অর্থাৎ হাদিসের অনুসারি ছিলেন।

তাই যারা বলবে আহলে হাদিস হচ্ছে ফেতনা বাজ।তারা এই অপবাদ সাহাবাদেরকেও দিলো।

তাই যারা আহলুল হাদিসদেরকে ফেতনা বাজ বলে আল্লাহ আপনে ঐ সব লোকদেরকে হেদায়েত দান  করুন।।

আমীন ইয়া রব

Comments

Popular posts from this blog

যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) হিসেবে টাকা দেয়া সুন্নত না কি খাদ্যদ্রব্য?

হাদীসে ফিতরা হিসেবে খাদ্যদ্রব্য প্রদানের কথাই বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে দিনার-দিরহামের প্রচলন ছিল কিন্তু তারা কখনো খাদ্যদ্রব্য ছাড়া দিনার-দিরহাম বা অন্য কিছু দ্বারা ফিতরা প্রদান করেছেন বলে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। কি কি জিনিস দ্বারা এবং কত পরিমাণ ফিতরা দেওয়া সুন্নত? এর উত্তর সহীহ হাদীসে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে যার, ফল কথা হল: খেজুর, যব, কিশমিশ, পনীর কিংবা প্রধান খাদ্য দ্রব্য দ্বারা ফিতরা দেওয়া সুন্নত, মূল্য দ্বারা নয়। আর এক জন ব্যক্তিকে এক সা’ ফিতরা দিতে হবে, যার পরিমাণ সাধারণ মানুষের চার পূর্ণ অঞ্জলি সমান। [ফাতাওয়া মাসায়েল, মাওলানা কাফী, পৃঃ ১৭২-১৭৩] কেজির ওজনে তা আড়াই কিলোর কম নয়। ▪ইবনে উমার (রাযি:) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ‘‘ আল্লাহর রাসূল যাকাতুল ফিতর স্বরূপ এক ’সা কিংবা এক ’সা যব ফরয করেছেন মুসলিম দাস, স্বাধীন ব্যক্তি, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড়র প্রতি। আর তা লোকদের নামাযে বের হওয়ার পূর্বে আদায় করে দিতে আদেশ করেছেন”। [ বুখারী, অধ্যায়: যাকাত হাদীস নং ১৫০৩/ মুসলিম নং ২২৭৫] উক্ত হাদীসে দুটি খাদ্য দ্রব্যের নাম পাওয়া গেল যা, দ্বা...

নামায আদায় না করলে রোযা হবে কী?

নামায আদায় না করলে রোযা হবে কী? অনেকেই নামাজ আদায় করে না। কিন্তু রমজান মাস আসলে ঠিকই রোজা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো যারা নামাজ না পড়ে শুধু রোজা পালন করে, তাদের রোজা কবুল হবে কিন। চলুন বুখারী শরীফ এবং মুসলীম শরীফের আলোকে জেনে নিই। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ( مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ ) “যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।” [ বুখারী – ৫২০ ] “তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়” এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাজির কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাজি তার আমল দ্বারা কোন ভাবে উপকৃত হবে না। তার কোনো আমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না। ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘আস-স্বালাত’ নামক গ্রন্থের ৬৫ পৃষ্ঠায় এ হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন– বেনামাজি ব্যক্তি দুই ধরণের- (১) পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা। কোন নামাজই না-পড়া। এ ব্যক্তির সমস্ত আমল বিফলে যাবে। (২) বিশেষ কোন দিন বিশেষ কোন নামাজ ত্যাগ করা। এক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনের আমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্...

মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গা সমান" এটা কি হাদিসের কথা?

"মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গার সমান কথা" এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস নয় বরং লোকসমাজে প্রচলিত একটি উক্তি মাত্র। আমাদের সমাজে এ কথাটি মুখেমুখে প্রচলিত রয়েছে এবং শিল্পীরা গানের মধ্যে এ জাতীয় কথা বলে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হাদিসের বক্তব্য নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়া, কারো মনে আঘাত করা, কারো সাথে প্রতারণা করা, অঙ্গিকার ভঙ্গ করা, গালি দেয়া, মিথ্যাচার করা ইত্যাদি অত্যন্ত জঘন্য গুনাহের কাজ- তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে উক্ত কথাটিকে হাদিস মনে করা বৈধ নয়। কেননা তা কোনো হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায় না। 🌀  মুমিনদেরকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়া মারাত্মাক অন্যায় ও কবিরা গুনাহ (বড় পাপ)। এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর কতিপয় বক্তব্য উপস্থাপন করা হল: ❐ আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَات ِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا "যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।" (সূরা আহযাব: ৮৫) ❐ আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়...