Skip to main content

Posts

মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গা সমান" এটা কি হাদিসের কথা?

"মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গার সমান কথা" এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস নয় বরং লোকসমাজে প্রচলিত একটি উক্তি মাত্র। আমাদের সমাজে এ কথাটি মুখেমুখে প্রচলিত রয়েছে এবং শিল্পীরা গানের মধ্যে এ জাতীয় কথা বলে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হাদিসের বক্তব্য নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়া, কারো মনে আঘাত করা, কারো সাথে প্রতারণা করা, অঙ্গিকার ভঙ্গ করা, গালি দেয়া, মিথ্যাচার করা ইত্যাদি অত্যন্ত জঘন্য গুনাহের কাজ- তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে উক্ত কথাটিকে হাদিস মনে করা বৈধ নয়। কেননা তা কোনো হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায় না। 🌀  মুমিনদেরকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়া মারাত্মাক অন্যায় ও কবিরা গুনাহ (বড় পাপ)। এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর কতিপয় বক্তব্য উপস্থাপন করা হল: ❐ আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَات ِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا "যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।" (সূরা আহযাব: ৮৫) ❐ আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়...

ঈদের বিধিবিধান

▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬ ভূমিকা: অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে যখন ঈদের এক ফালি চাঁদ পশ্চিম দিগন্তে ভেসে উঠে তখন সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। শিশু-কিশোরগণ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে প্রজাবতীর মত ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। এই ঈদ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নিয়ামত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমন করে দেখলেন, মদীনাবাসী খেলা-ধূলার মধ্য দিয়ে দুটি দিবস উদযাপন করে থাকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিবস কি? তারা বলল, এ দুটি দিবস জাহেলি যুগে আমরা খেলা-ধুলার মধ্যদিয়ে উদযাপন করতাম। তিনি বললেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুটি দিবসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, একটি হল, ঈদুল আযহা এবং অপরটি হল, ঈদুল ফিতর।” (সুনান আবু দাঊদ, হাদিস নং ৯৫৯ সনদ-সহীহ, আলবানী) (রহঃ) ইসলামী দিক নির্দেশনা অনুযায়ী যদি আমরা ঈদ উদযাপন করি তবে একদিকে যেমন ঈদের অনাবিল আনন্দে ভরে উঠবে আমাদের পার্থিব জীবন অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হবে আমাদের পরকালীন জিন্দেগি। 💠 ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর ছাড়া অন্য কোন ঈদ-উৎসব পালন করা:  উপরোল্লিখিত হাদিস থ...

আহলে_হাদীস_সম্পর্কে_বিদ্যানগণের_মতামত। [আসুন যেনে নিই আহলে হাদিসদের মর্যাদা]

★★আহলে হাদিস কোন ধর্মের জাতির বা কোন সম্প্রদায়ের নাম নয় এটি মুসলমানদের একটি গুনগত বা বৈশিষ্টগত নাম মাত্র। ফারসি সম্বন্ধ পদে  আহলেহাদীছ্ এবং আরবী সম্বন্ধ পদে আহলুল হাদীছ্  -এর আভিধানিক অর্থঃ হাদীছের অনুসারী। এবং পারিভাষিক অর্থে কুরআন ও সহীহ্ হাদীছের নিরপেক্ষ অনুসারী "। ♦♦যিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ হাদীছের সিদ্ধান্তকে নিঃশর্তভাবে  তুলতে সচেষ্ট হবেন কেবলমাত্র তিনিই এ নামে অভিহিত হবেন। সাহাবায়ে কেরাম হলেন আহলে হাদিসদের প্রথম সারির সম্মানিত দল। কেননা সাহাবায়ে কেরামের যুগেই এই আহলেহাদীছ্ শব্দ টি ব্যাপক ভাবে প্রসার লাভ করে। কারন সে সময় বিভিন্ন ফের্কা জন্ম নিয়ে ছিল যেমনঃশীয়া,খারেজী, মুতাযিলা,মুরজিয়া, রাফেজিয়া প্রভৃতি নামে প্রসিদ্ধ। ♦♦তারা সকলেই নিজেদের কে আহলুস সুন্নাহ ও মুসলমান বলে দাবি করত।একারনেই প্রকৃত মুসলমান হিসাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে আহলুল হাদীছ্ শব্দটি ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই দেখা যায়। ♦♦যেমন হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রা) হতে বর্নিত তিনি যখন কোন মুসলিম যুবককে দেখতেন তখন খুশি হয়ে বলতেন, রাসুল (স) এর অসীয়ত অনুযায়ী আম...

যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) হিসেবে টাকা দেয়া সুন্নত না কি খাদ্যদ্রব্য?

হাদীসে ফিতরা হিসেবে খাদ্যদ্রব্য প্রদানের কথাই বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে দিনার-দিরহামের প্রচলন ছিল কিন্তু তারা কখনো খাদ্যদ্রব্য ছাড়া দিনার-দিরহাম বা অন্য কিছু দ্বারা ফিতরা প্রদান করেছেন বলে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। কি কি জিনিস দ্বারা এবং কত পরিমাণ ফিতরা দেওয়া সুন্নত? এর উত্তর সহীহ হাদীসে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে যার, ফল কথা হল: খেজুর, যব, কিশমিশ, পনীর কিংবা প্রধান খাদ্য দ্রব্য দ্বারা ফিতরা দেওয়া সুন্নত, মূল্য দ্বারা নয়। আর এক জন ব্যক্তিকে এক সা’ ফিতরা দিতে হবে, যার পরিমাণ সাধারণ মানুষের চার পূর্ণ অঞ্জলি সমান। [ফাতাওয়া মাসায়েল, মাওলানা কাফী, পৃঃ ১৭২-১৭৩] কেজির ওজনে তা আড়াই কিলোর কম নয়। ▪ইবনে উমার (রাযি:) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ‘‘ আল্লাহর রাসূল যাকাতুল ফিতর স্বরূপ এক ’সা কিংবা এক ’সা যব ফরয করেছেন মুসলিম দাস, স্বাধীন ব্যক্তি, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড়র প্রতি। আর তা লোকদের নামাযে বের হওয়ার পূর্বে আদায় করে দিতে আদেশ করেছেন”। [ বুখারী, অধ্যায়: যাকাত হাদীস নং ১৫০৩/ মুসলিম নং ২২৭৫] উক্ত হাদীসে দুটি খাদ্য দ্রব্যের নাম পাওয়া গেল যা, দ্বা...

ধর্ষকেরা কেন শাস্তি পায় না?

দেশে কি ধর্ষণের মৌসুম চলছে নাকি? একের পর এক ঘটে চলেছে ধর্ষণের ঘটনা। বগুড়ায় শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতে ৩ আগস্ট প্রথম আলোর শিরোনাম, ‘একের পর এক ধর্ষণের অভিযোগ চার দিনে আরও পাঁচ ঘটনা’। আর গতকালের শিরোনাম ছিল, ‘শিশু, গৃহবধূসহ চারজনকে ধর্ষণের অভিযোগ’। চলছেই। ধর্ষণ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তারপরও কী করে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ধর্ষণের ঘটনা? এর পেছনের কারণ কী? অনেকে বলে থাকেন, পুরুষের বিকৃত মানসিকতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ধর্ষণের অন্যতম কারণ। কিন্তু সবক্ষেত্রেই কি এগুলোই মূল কারণ? বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার জন্য দায়ী নয়? নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ধারা ৯-তে বলা হয়েছে: ১. যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। ২. যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা ওই ধর্ষণ-পরবর্তী অন্য কার্যকলাপের ফলে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অ...

নামায আদায় না করলে রোযা হবে কী?

নামায আদায় না করলে রোযা হবে কী? অনেকেই নামাজ আদায় করে না। কিন্তু রমজান মাস আসলে ঠিকই রোজা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো যারা নামাজ না পড়ে শুধু রোজা পালন করে, তাদের রোজা কবুল হবে কিন। চলুন বুখারী শরীফ এবং মুসলীম শরীফের আলোকে জেনে নিই। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ( مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ ) “যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।” [ বুখারী – ৫২০ ] “তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়” এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাজির কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাজি তার আমল দ্বারা কোন ভাবে উপকৃত হবে না। তার কোনো আমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না। ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘আস-স্বালাত’ নামক গ্রন্থের ৬৫ পৃষ্ঠায় এ হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন– বেনামাজি ব্যক্তি দুই ধরণের- (১) পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা। কোন নামাজই না-পড়া। এ ব্যক্তির সমস্ত আমল বিফলে যাবে। (২) বিশেষ কোন দিন বিশেষ কোন নামাজ ত্যাগ করা। এক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনের আমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্...

ISLAM FOR BETTER LIFE

২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে প্রস্তুত রাখার জন্য প্রত্যেক স্কুল,কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রের জন্য বই চারটি পড়া জরুরী মনে করছি। ১.প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ, ২.তত্ত্ব ছেড়ে জীবনে, ৩.বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ (স), ৪.মুক্ত বাতাসের খোঁজে পোস্ট এবং ফটো ক্রেডিট: খালাদুল ইসলাম